
মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আবেদনে বলা হয়েছে, সোহানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্র আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে এদিন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ তাকে গ্রেপ্তার করার তথ্য জানান।
দুদক বলছে, পিএসসি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আবেদ আলী জীবন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ধারাবাহিক বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সোহানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে আবেদ আলী জীবনের বিরুদ্ধে প্রায় পৌনে চার কোটি টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। আবেদ আলী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা করা হয়। মামলায় আবেদ আলীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তদন্তে তার নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে ২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৭১ টাকা জমা এবং ২০ কোটি ৪১ লাখ ৩ হাজার ৭৪১ টাকা তোলার তথ্য মেলে।
এই লেনদেনগুলোকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে সেসময় দুদকের মহাপরিচালক আক্তার বলেছিলেন, ‘দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে’ অর্জিত অর্থ বা সম্পদের উৎস গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে আবেদ আলীর বিরুদ্ধে। আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর বিরুদ্ধে মামলায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে আনা হয়েছে। তদন্তে তার দুটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৬ টাকা জমা এবং ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫ টাকা তোলার তথ্য পাওয়ার তথ্য জানিয়ে মামলায় ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এছাড়া আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে আলাদা মামলা করেছে দুদক। এর আগে দুদকের আবেদনে গত বৃহস্পতিবার আবেদ আলী জীবনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।