নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের কুনিরবিল গ্রামে কাঠবিড়ালির অস্বাভাবিক উপদ্রব জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করেছে। একসময় ফলজ গাছে সমৃদ্ধ এ গ্রাম এখন ধীরে ধীরে সেই ঐতিহ্য হারানোর পথে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় এক দশক ধরে কাঠবিড়ালির আক্রমণে ফলন কমে গেছে, এমনকি অনেক গাছই মারা যাচ্ছে।
চাঁনখালী নদীর তীরবর্তী কুনিরবিল গ্রামটি উত্তরে পরৈকোড়া ইউনিয়নের মামুর খাইন ও ওষখাইন, দক্ষিণে পীরখাইন এবং পশ্চিমে গুজরা গ্রামের সংলগ্ন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে নারিকেল, সুপারি, কলা, পেঁপে, আম, জাম, লিচু ও আনারসহ নানা ফলজ গাছের জন্য পরিচিত ছিল।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এসব ফল শুধু পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করত না, বরং অতিরিক্ত ফল বাজারে বিক্রি করে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে লাভবান হতো। কিন্তু বর্তমানে কাঠবিড়ালির কারণে সেই সম্ভাবনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্রামের যুবক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “কাঠবিড়ালি এখন শুধু ফল খায় না, নারিকেল ও সুপারি গাছের কচি ডগা খেয়ে গাছ মেরে ফেলছে। আগে যেখানে ঘরে ঘরে নারিকেল পাওয়া যেত, এখন তা প্রায় বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।”
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কাঠবিড়ালির কারণে ফলন কমে যাওয়ায় অনেকেই নতুন করে গাছ লাগাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে ভবিষ্যতে এলাকায় ফলজ গাছের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুষ্টির ঘাটতি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা, বনাঞ্চল হ্রাস এবং খাদ্যের অভাবের কারণে কাঠবিড়ালি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে তারা সহজলভ্য ফলজ গাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রাণিবিদদের মতে, কাঠবিড়ালি সাধারণত তৃণভোজী হলেও বীজ, ফল এবং মাঝে মাঝে পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। এদের তীক্ষ্ণ দাঁত ও শক্ত নখ গাছে ওঠা-নামা সহজ করে এবং এক গাছ থেকে অন্য গাছে দ্রুত চলাচলে সহায়তা করে। ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য মজুত করার অভ্যাসও এদের রয়েছে।
কুনিরবিল গ্রামের বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে ফলজ গাছ ও কৃষি সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি গ্রামবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা হোক।
স্থানীয়দের ভাষায়, “এখন ব্যবস্থা না নিলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এই গ্রামের ফলজ ঐতিহ্য শুধু গল্পেই শুনবে।”