প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 17, 2026 ইং
কর্ণফুলীতে কোস্ট গার্ড–মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে বড় সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম )
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযানে অবৈধ চিংড়ির রেণু জব্দ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের দায়ে একটি মাছ ধরার নৌযান আটক করেছে কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত (১৭ এপ্রিল) আনুমানিক রাত ১টার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য দপ্তর ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন।অভিযানে বাগদা চিংড়ির রেণুবাহী দুটি ট্রাক আটক করা হয়। ট্রাক দুটিতে থাকা মোট ৭০টি প্লাস্টিক ড্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ চিংড়ির রেণু উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব রেণু কোনো অনুমোদিত হ্যাচারি থেকে উৎপাদিত নয়; বরং কক্সবাজার উপকূলের প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগমের নির্দেশনা এবং কর্ণফুলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে জব্দকৃত রেণুগুলো পরবর্তীতে কর্ণফুলী নদীতে অবমুক্ত করা হয়। জব্দকৃত রেণুর বাজারমূল্য আনুমানিক ৬ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। একই রাতে আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ৫৮ দিনব্যাপী সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সমুদ্রে অবৈধভাবে মাছ শিকাররত একটি মাছ ধরার নৌযান আটক করা হয়। আটক বোটে থাকা মাছের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ঘটনায় বোট মালিকের বিরুদ্ধে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩-এর ধারা ২৪(৪) অনুযায়ী জব্দকৃত মাছের একটি অংশ স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসায় বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট মাছ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে (ভ্যাট ও ট্যাক্স ব্যতীত)। অভিযানকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের জরিপ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ মৎস্য আহরণ ও চিংড়ির রেণু সংগ্রহ বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ প্রবাসী নিউজ টিভি