প্রিন্ট এর তারিখঃ May 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 29, 2026 ইং
আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার ঘিরে বিতর্ক, ৮৫ লাখ টাকার দাবির অভিযোগে তোলপাড়

আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার ঘিরে বিতর্ক, ৮৫ লাখ টাকার দাবির অভিযোগে তোলপাড়
নিজস্ব প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের ইমরান ইসলামাবাদীর মনোনয়ন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তৎকালীন সময়ে তিনি পারিবারিক কারণ দেখিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও বর্তমানে দাবি করছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা তাকে চাপ প্রয়োগ করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে বাধ্য করেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে তার নির্বাচনী খরচ বাবদ ৮৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। ইমরান ইসলামাবাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, মনোনয়ন গ্রহণ থেকে প্রত্যাহার পর্যন্ত তার প্রায় ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষ। তবে নির্বাচনের আগে মাত্র ৫ লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি অর্থ নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানালে তার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বাধ্য হয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয়। বিষয়টি তিনি তখন প্রকাশ না করে জোটের স্বার্থে পারিবারিক কারণ দেখিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পারিবারিক সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন জামায়াত সংশ্লিষ্ট নেতারা। আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসনে জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা মহানগর নেতা ইয়াছিন আহমেদ বলেন, ইমরান ইসলামাবাদীর এলাকায় কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল না এবং তিনি নিজেই পারিবারিক ও আর্থিক অক্ষমতার কথা জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি দাবি করেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর ইমরান ইসলামাবাদী স্বতঃস্ফূর্তভাবে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। পরবর্তীতে তিনি ৮৫ লাখ টাকা দাবি করলে বিষয়টি দলীয়ভাবে নেতিবাচকভাবে দেখা হয় এবং তার আচরণকে অনৈতিক বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহার সংক্রান্ত কোনো আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে প্রার্থী প্রত্যাহারের সময় ইমরান ইসলামাবাদী নিজেই পারিবারিক কারণ উল্লেখ করেছিলেন এবং পরে তার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে ঘিরে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল বাড়ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ প্রবাসী নিউজ টিভি