প্রিন্ট এর তারিখঃ May 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 19, 2026 ইং
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ পলিথিন বন্ধ ও পলিথিন সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন
দুর্নীতি বিরোধী সচেতনতা পরিষদ বাংলাদেশ এর উদ্দ্যেগে জনসচেতনতা অনুষ্ঠানের আয়োজন.
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ পলিথিন সিন্ডিকেট: নীরব পরিবেশ বিপর্যয়ের ছায়া:প্রশাসন ও রাজনৈতিক— মুখোশের আড়ালে ৫০০ কোটি টাকার অবৈধ বাজার। পরিবেশ বাঁচাতে চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ পলিথিন বন্ধ ও অবৈধ পলিথিন সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচনে, দুর্নীতি বিরোধী সচেতনত পরিষদ বাংলাদেশ" এর উদ্দ্যেগে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক নগরীর হাট-বাজার, পাইকারি আড়ত ও খুচরা দোকান—সবখানেই এখন এক নীরব অথচ ভয়াবহ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে: নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহার ও বিস্তার। আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে এই পলিথিন এখন বাজার ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী “অদৃশ্য অর্থনীতি” হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু পরিবেশ আইন লঙ্ঘন নয়—বরং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত অবৈধ ব্যবসা, যার আর্থিক পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাইকারি বাজারকে কেন্দ্র করে একটি চক্র: অবৈধভাবে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন বা আমদানি করছে। গোপন গুদামে মজুত করছে। রাতের বেলায় ট্রাক ও ভ্যানে করে বাজারে সরবরাহ দিচ্ছে। ছোট দোকানদারদের কম দামে প্রলুব্ধ করে ব্যবহার বাড়াচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, “আইন থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। মাঝে মাঝে অভিযান হলেও কয়েকদিন পর আবার একই চিত্র ফিরে আসে। পরিবেশবিদদের মতে, নিষিদ্ধ পলিথিনের এই বিস্তার: নালা-নর্দমা বন্ধ করে জলাবদ্ধতা বাড়াচ্ছে। সমুদ্র ও নদীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ ঘটাচ্ছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলছে। একজন পরিবেশ গবেষকের ভাষায়, এটা এখন আর শুধু বর্জ্য সমস্যা নয়, এটি ধীরে ধীরে একটি শহুরে পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। স্থানীয়পর্যায়ে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালিত হলেও প্রশ্ন উঠছে এর কার্যকারিতা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে— মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের ধরে অভিযান সীমিত রাখা হয়। মূল উৎপাদক ও বড় সিন্ডিকেট সদস্যরা আড়ালে থেকে যায়, জরিমানার পর পুনরায় একই ব্যবসা শুরু হয়। ফলে একটি “ঘূর্ণায়মান অপরাধ চক্র” তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ৫০০ কোটি টাকার ছায়া বাজার? বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলে নিষিদ্ধ পলিথিনের এই অবৈধ বাজারের আকার বছরে কয়েকশ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এই অর্থনৈতিক স্বার্থই সিন্ডিকেটকে আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের মতে, এই সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজন: কঠোর ও ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট অভিযান। সিন্ডিকেটের মূল উৎস উৎপাদন পর্যায়ে আঘাত। লাইসেন্স ও সরবরাহ চেইন ডিজিটাল মনিটরিং। পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্যের সহজলভ্যতা। গণসচেতনতা ও স্থানীয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।পরিবেশ বাঁচাতে চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ পলিথিন বন্ধ ও অবৈধ পলিথিন সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচনে "দুর্নীতি বিরোধী সচেতনত পরিষদ বাংলাদেশ" এর উদ্দ্যেগে এই বিষয়টি সামনে এনে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানটিতে সিন্ডিকেটের নেপথ্য, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকনে- মানবাধিকার সংগঠনের নেতা, পরিবেশবাদী, অনুসন্ধানি সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা সহ পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ। চট্টগ্রামের মতো বাণিজ্যিক নগরীতে নিষিদ্ধ পলিথিনের এই বিস্তার এখন আর বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়—এটি একটি সংগঠিত অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকেত। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বিস্তারিত জানতে-
রফিকুল ইসলাম
মহাসচিব,
দুর্নীতি বিরোধী সচেতনত পরিষদ বাংলাদেশ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ প্রবাসী নিউজ টিভি