প্রিন্ট এর তারিখঃ May 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 21, 2026 ইং
চাঞ্চল্যকর সাজ্জাদ হত্যা মামলায় নতুন মোড়

আন্তঃজেলা সিএনজি চোরচক্রের ‘সক্রিয় সদস্য’ আবুল বশর গ্রেফতার, বেরিয়ে আসছে ভয়ংকর নেটওয়ার্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় আলোচিত সিএনজি চালক সাজ্জাদ হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযানের পর আন্তঃজেলা সিএনজি চোর ও ছিনতাইচক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত এস.এম আবুল বশর (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ভয়ংকর নেটওয়ার্কের নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত সাজ্জাদ (২২) আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও কুলালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক ছিলেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি বাড়ি থেকে সিএনজি নিয়ে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ১৬ সেপ্টেম্বর বরুমছড়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকার একটি ফিশারির পুকুরপাড়ের নিচে পানিতে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর নিহতের বাবা মো. নাছির ড্রাইভার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করলে বাংলাদেশ পুলিশ এর আনোয়ারা থানা হত্যা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এর আগে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাতজন এবং নিহতের সিএনজি ক্রেতাসহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং জুনায়েত চৌধুরী এর তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এসআই শিমুল চন্দ্র দাস, এসআই ইমাম হোসেন, এএসআই মো. নুরুল আফছারসহ পুলিশের একটি দল বুধবার (২০ মে) গভীর রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন জহুর হকার্স মার্কেট এলাকা থেকে এস.এম আবুল বশরকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃত আবুল বশর দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ও ছিনতাইকৃত সিএনজি স্বল্পমূল্যে কিনে সেগুলোর রূপ পরিবর্তন করে বেশি দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভাগের বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চোরচক্রের সদস্যদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গ্রেফতার হওয়া চোর ও ছিনতাইকারী সদস্যদের আদালত থেকে জামিনে মুক্ত করার ব্যবস্থাও করতেন তিনি। পরে তাদের পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ প্রবাসী নিউজ টিভি