প্রিন্ট এর তারিখঃ May 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 24, 2026 ইং
সীমানা পেরিয়ে জ্ঞানের নতুন বিপ্লব
বৈশ্বিক নেতৃত্ব, গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত তুলে ধরলেন ড. আসিফ মিজান
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম
বিশ্বায়নের দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষা আর কেবল শ্রেণিকক্ষ বা একটি দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। জ্ঞান, গবেষণা, প্রযুক্তি ও নেতৃত্ব এখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নির্ভর এক বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে রূপ নিয়েছে। এমন বাস্তবতায় “সীমানা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষা: গ্লোবাল লিডারশিপ ও একাডেমিক সৌহার্দ্য” শীর্ষক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার গুরুত্ব, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রচিন্তক ও রাজনীতি বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। বর্তমানে সোমালিয়ার দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. আসিফ মিজান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষাবিদের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক একাডেমিক সম্পর্ক শুধু সৌহার্দ্য নয়, বরং এটি গবেষণার মানোন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করা এবং নতুন প্রজন্মের দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির কার্যকর কৌশল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহ-লেখকত্ব, সীমান্ত অতিক্রমী গবেষণা ও বহুজাতিক একাডেমিক অংশীদারিত্ব বর্তমানে গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান উপাদান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা মূল্যায়ন সূচক অনুযায়ী বহুদেশীয় গবেষণা প্রবন্ধ অধিক উদ্ধৃতি, উচ্চতর প্রভাব ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করে। ড. আসিফ মিজানের মতে, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেয়। ক্রেডিট ট্রান্সফার, যৌথ বা দ্বৈত ডিগ্রি, আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ, গবেষণা অনুদান ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। বাংলাদেশের তরুণরা এসব সুযোগে যুক্ত হতে পারলে ব্যক্তি উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মনে করেন। লেখায় তিনি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব এখন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিণত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিকীকরণকে আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক প্রয়োজন হিসেবে দেখতে হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে টেকসই করতে প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, স্বীকৃত ক্রেডিট ও ডিগ্রি ট্রান্সফার ব্যবস্থা, বহুভাষিক সহায়তা, সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি এবং যৌথ গবেষণা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক একাডেমিক নেটওয়ার্কের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দেশের পক্ষে এককভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন, তাই জ্ঞান, গবেষণা ও নীতি সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতাই হতে পারে কার্যকর সমাধান। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত নিয়ে নিজের মূল্যায়নে ড. আসিফ মিজান বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষার বিস্তার ঘটলেও গবেষণার মান, উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বৈশ্বিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। কৌশলগত আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ “ব্রেন ড্রেন” পরিস্থিতি থেকে “ব্রেন গেইন”-এ রূপান্তরের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।তিনি মনে করেন, বিদেশে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, গবেষক ও পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা, নেটওয়ার্ক ও সম্পদকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। লেখার শেষাংশে ড. আসিফ মিজান বলেন, আন্তর্জাতিক একাডেমিক সৌহার্দ্য কেবল সম্পর্কের বিষয় নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্মাণের ভিত্তি। উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা মানচিত্রে আরও শক্তিশালী ও স্মরণীয় অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ প্রবাসী নিউজ টিভি