প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং
পিএইচডি, আমলা, শিক্ষক কিন্তু মায়ের খোঁজ নেই,

‘মায়ের পচা-গলা লাশ শুধু একটি ফ্ল্যাটের নয়, পুরো সমাজব্যবস্থার পচনের প্রতীক’
নিজস্ব প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম)
মায়ের মরদেহ ঘরের ভেতরে পড়ে আছে দিনের পর দিন, অথচ বাইরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত সন্তানরা। সম্প্রতি আলোচিত এমন এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক অবক্ষয় নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন রাজনীতি ও সমাজ বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। শিক্ষার মুখোশ ও বিবেকের মৃত্যু: একবিংশ শতাব্দীর সামাজিক ব্যাধি” শীর্ষক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে উচ্চশিক্ষা, পদ-পদবি ও আন্তর্জাতিক সাফল্যের আড়ালে ভয়াবহ মানবিক শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন মা নিজের জীবন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও ভালোবাসা দিয়ে সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুললেও জীবনের শেষ সময়ে সেই মায়ের ভাগ্যে জুটছে নিঃসঙ্গতা, অবহেলা ও নির্মম পরিণতি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি সন্তানদের মানুষ বানাচ্ছি, নাকি অর্থ, ক্ষমতা ও ক্যারিয়ারনির্ভর সংবেদনহীন যন্ত্রে পরিণত করছি? বিশ্লেষণে তিনি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে জিপিএ ও সার্টিফিকেটকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার কারখানা” আখ্যা দিয়ে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও পারিবারিক দায়বদ্ধতার মতো মৌলিক মানবিক শিক্ষা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভোগবাদী সমাজব্যবস্থা, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা ও সম্পর্কের বাণিজ্যিকীকরণকে বর্তমান সংকটের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ড. আসিফ মিজানের মতে, সমাজে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী কেবল অশিক্ষা বা দারিদ্র্য নয়, বরং উচ্চশিক্ষিত ও সুবিধাভোগী শ্রেণির মধ্যেও ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়েছে। আর্থিক কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও সামাজিক নিষ্ঠুরতার পেছনেও প্রায়ই এই শিক্ষিত শ্রেণির উপস্থিতি দেখা যায়। সমাধানের বিষয়ে তিনি দ্বিমুখী কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একদিকে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩’ এর কার্যকর ও কঠোর প্রয়োগ, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজে সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, আইন মানুষকে ভয় দেখিয়ে দায়িত্ব পালন করাতে পারে, কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মানবিকতা তৈরি করতে পারে কেবল পরিবার, শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কৃতি। লেখার শেষাংশে তিনি সতর্ক করে বলেন, “সন্তানদের শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমলা বা পিএইচডিধারী বানানোর প্রতিযোগিতা নয়, সবার আগে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সামাজিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। নয়তো আজকের অবহেলা আগামীকাল সমাজের প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়বে।
লেখক: উপাচার্য, দারুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ প্রবাসী নিউজ টিভি