প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 9, 2026 ইং
কর্ণফুলীতে দম্পতির কাছ থেকে ৫,৮০০ ইয়াবা উদ্ধারের দাবি, আত্মসাতের অভিযোগে বিতর্ক

কর্ণফুলীতে ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী স্ত্রী গ্রেফতার
মো. সাইফুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার মইজ্যারটেক পুলিশ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। তবে অভিযানের পর উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক সূত্রের অভিযোগ, জব্দ তালিকায় উল্লেখিত ইয়াবার পরিমাণের সঙ্গে প্রকৃত উদ্ধারের সংখ্যার অমিল রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে কর্ণফুলী থানার মইজ্যারটেক মোড়ে স্থাপিত পুলিশ চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশিকালে এসআই (নিরস্ত্র) ইমরান ফয়সালের নেতৃত্বে একটি দল কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাসিন্দা রমজান আলী (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী দিলোয়ারা বেগমকে (২৩) আটক করে। পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ) ধারায় কর্ণফুলী থানায় মামলা (নং-০৭, তারিখ: ৯ জুলাই ২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে অভিযানের পরপরই ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আটক দম্পতির কাছ থেকে মোট ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু জব্দ তালিকায় ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা দেখিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে অবশিষ্ট ৬ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই (নিরস্ত্র) ইমরান ফয়সালের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলী থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জব্দ তালিকা, আলামত সংরক্ষণ, অভিযানের ভিডিও ফুটেজ এবং অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে এসআই ইমরান ফয়সালের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তার জবাবে তিনি বলেন, আমরা যতটুকু ইয়াবা উদ্ধার করেছি, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তা জব্দ করে আইনানুগভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।" ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা গণনা করে যত পাওয়া গেছে, সেই পরিমাণই জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ প্রবাসী নিউজ টিভি