প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 12, 2026 ইং
কর্ণফুলীতে সোয়েটার কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ

বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রধান ফটকে বিক্ষোভ, টাকা না পাওয়া পর্যন্ত কাজে না ফেরার ঘোষণা
মোঃ সাইফুল ইসলাম কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে একটি সোয়েটার কারখানার প্রধান ফটকে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার ফকিরনীর হাট এলাকার বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানাটিতে নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা হয় না। এক মাসের বেতন পরিশোধ করতে করতে পরের মাস চলে আসে। আগস্ট মাসের ১২ তারিখ হলেও এখনো জুন মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। বকেয়া বেতন কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক নারী শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুই মাসের বেতন বাকি। চলতি মাসসহ তিন মাস হয়ে যাবে। বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন, দোকানেও বাকি পরিশোধের চাপ রয়েছে। রাতদিন পরিশ্রম করে মাস শেষে ঠিকমতো বেতন না পেলে আমরা কীভাবে চলব? শ্রমিকদের ভাষ্য, কারখানাটি বছরে কয়েক মাস বন্ধ থাকে। বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ না হওয়ায় এর আগেও একাধিকবার শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনের পর পুলিশ গিয়ে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও পরে সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। কারখানাটিতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ শ্রমিক কাজ করেন বলে জানা গেছে। শ্রমিকেরা আরও অভিযোগ করেন, তাঁদের বেতন মাসের পর মাস বকেয়া থাকলেও কারখানার অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও রয়েছে। কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সাইফুল বলেন, সারা বছর যদি বেতন নিয়ে শ্রমিকদের এভাবে সমস্যায় থাকতে হয়, তাহলে তাঁদের সংসার চালানো কঠিন। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের পর কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়েও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল বলেন, ‘আমাদের সাফ কথা, আগে বকেয়া বেতনের টাকা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। এরপরই আমরা কাজে যোগ দেব। তবে শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপক শহীদুল আজম বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও শ্রমিকেরা তা মানছেন না। নানা কারণে কারখানা পরিচালনায় সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাত-আট বছর হলেও আমরা এখনো গ্যাস সংযোগ পাইনি। আরও নানা পারিপার্শ্বিক কারণে বেতন পরিশোধে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় শিল্প পুলিশ ও কর্ণফুলী থানা পুলিশের দুটি দল। তারা শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। শিল্প পুলিশের পরিদর্শক গোলাম নবী বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ আরও কয়েকদিন সময় চাইলেও শ্রমিকেরা তাতে রাজি হননি। শ্রমিকদের দাবি, বকেয়া বেতন অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার পরই তাঁরা কাজে যোগ দেবেন। তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে শ্রমিকেরা যে যার মতো বাড়িতে চলে যান।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ প্রবাসী নিউজ টিভি