
বাঁধের দুই-তৃতীয়াংশ নদীতে বিলীন, যেকোনো সময় লোকালয়ে ঢুকতে পারে জোয়ারের পানি
মো. সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
টানা বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে শঙ্খ নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝির ঘাট এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে বাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে ভাঙনে বাঁধের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে যেকোনো সময় বাঁধের বাকি অংশও ধসে পড়ে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বেড়িবাঁধের এক পাশে চলমান রয়েছে ব্লক বসানোর কাজ। এর মধ্যেই অন্য পাশে নতুন করে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় পুরো বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঁধ ভেঙে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ২ নম্বর থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতঘর, মৎস্যঘের, ফসলি জমি ও স্থানীয় অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঝির ঘাট এলাকায় শঙ্খ নদীর প্রবল স্রোত ও জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধের মাটি সরে গিয়ে নদীর দিকে ধসে পড়েছে। ইতোমধ্যে বাঁধের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় অবশিষ্ট অংশও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টি এবং শঙ্খ নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বাঁধের ওপর চাপ বেড়েছে। এর সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানি যুক্ত হওয়ায় ভাঙন তীব্র হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, গত ২০ বছরে ভাঙনের কারণে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের আয়তন ও বসতভিটা ক্রমেই কমে আসছে। শত শত বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এবার বাঁধে যেভাবে ফাটল দেখা দিয়েছে, তাতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাতে অনেকেই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন না।
জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জসীম উদ্দিন বলেন, বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ ইতোমধ্যে শঙ্খ নদীতে বিলীন হয়েছে। মাঝির ঘাট এলাকায় বাঁধের বিশাল অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। নৌবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তবে চলমান প্রকল্পের মধ্যেই মাঝির ঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙন ও ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। পাউবো জানিয়েছে, ভাঙনকবলিত এলাকা সার্ভে করে এ বিষয়ে ডিপিপি প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ বলেন, বিষয়টি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাঁধের ফাটল ও ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ শঙ্খ নদীর জোয়ারের পানি প্রতিদিনই বাঁধের দুর্বল অংশে আঘাত করছে। দ্রুত সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের নদীভাঙন ও লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বাঁধের অবশিষ্ট অংশ ভেঙে গেলে শুধু কয়েকটি বসতঘর নয়, জুঁইদণ্ডীর বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, মৎস্যঘের ও জনপদ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। তাই বর্ষা ও জোয়ারের পানি আরও বাড়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অংশগুলো কার্যকরভাবে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।