প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 8, 2026 ইং
কর্ণফুলীতে গভীর রাতে সরকারি গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ

কাটা গাছ জব্দ, তদন্ত কমিটি গঠন
মোঃ সাইফুল ইসলাম কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
গভীর রাত। রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাঙা হচ্ছে একটি বাউন্ডারি। এরপর ট্রাকে করে আনা বালু ফেলে জায়গা ভরাটের কাজ শুরু হয়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুনির আহমেদ সওদাগর সড়কসংলগ্ন এলাকায় গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ডব্লিউ আর রিয়েল এস্টেটের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা, বাউন্ডারি ভাঙা ও বালু ভরাটের কাজ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা ও তাঁদের স্বজনসহ কয়েকজনের নামও অভিযোগে এসেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের কয়েকজন। অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা কিলার আবছার, এটিএম হানিফ, আবদুন নূর, আবছারের তিন ছেলে নজিবুল হক শাওন, মো. সজিব ও মো. সৌরভ, ভাগিনা মো. বেলাল এবং মো. রুবেল ওরফে ‘কিলার খাট্টা রুবেল’-এর নাম রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে জায়গাটির কেয়ারটেকার মো. আনিস এবং মো. মারুফ ও মো. সখিরের যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। গাছ কাটার জন্য স্থানীয় শওকত নামের এক ব্যক্তিকে কাজ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কাটার পাশাপাশি জায়গাটির সীমানা ভেঙে বালু ভরাট করা হয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি জায়গা বা রাস্তার পাশের গাছ কাটার অনুমতি কে দিয়েছিল এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করে বাউন্ডারি ভাঙার অধিকারই বা কার ছিল। চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুনির আহমেদ সওদাগর বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ দস্তগীরও ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, বিএনপির কয়েকজন নেতা ও মোহাম্মদ সখিরসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছিলেন। তবে গাছ কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এটিএম হানিফ। তিনি বলেন, তাঁরা মো. মারুফের কাছ থেকে বালু ভরাটের কাজ নিয়েছেন। গাছ কাটার সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন এবং গাছ কাটার সময় ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। মো. মারুফ বলেন, তিনি একটি গাছ কাটার কথা জানেন। তবে জায়গাটি তিনি কেনেননি এবং কাউকে সেখানে বালু ভরাটের অনুমতিও দেননি। এ ডব্লিউ আর রিয়েল এস্টেটের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শওকত বলেন, তাঁদের জায়গা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। গাছ কাটা ও বাউন্ডারি ভেঙে বালু ভরাটের বিষয়টি তাঁরা জানতেন না। এ ঘটনায় তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। স্থানীয়দের আরও দাবি, এর আগেও মো. মারুফের বিরুদ্ধে পাশের একটি জায়গা থেকে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় বন বিভাগের তদন্তের পর তিনি লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন। তবে এ দাবির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসনও। কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, কাটা গাছগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারা গাছ কেটেছে, তাঁদের নামসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দিতে তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউএনও বলেন, তদন্তে সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে সংশ্লিষ্ট আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ প্রবাসী নিউজ টিভি