আনোয়ারার মাদ্রাসায় ‘দুই অধ্যক্ষ’ সংকট
মোঃ রফিকুল ইসলাম
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2026 ইং
অবসরের পরও ছাড়ছেন না চেয়ার, ৯ বছর ধরে দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত শিক্ষা কার্যক্রম
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার একটি ফাজিল মাদ্রাসায় দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে চলছে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। একই প্রতিষ্ঠানে দুই অধ্যক্ষের কার্যক্রম, শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব এবং আলাদা হাজিরা ব্যবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চুন্নাপাড়া মুনিরুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসায় সরেজমিনে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আলাদা কক্ষে বসে অফিস করছেন। এমনকি হাজিরা খাতাও রয়েছে দুটি। তবে সব শিক্ষকই একসঙ্গে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। দীর্ঘদিনের এ দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানও নিম্নমুখী হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে অনিয়মের অভিযোগে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন হাশেমীকে অপসারণ করা হয়। পরে শেখ কামাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু অপসারণের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান হাশেমী। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চললেও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যে পরিচালনা কমিটি নিয়েও নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। সাবেক অধ্যক্ষের উদ্যোগে একটি এডহক কমিটি গঠন করা হলে, সেটির বিরুদ্ধে আদালতে যান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। আদালত আগামী ৭ মে পর্যন্ত ওই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার পরও সাবেক অধ্যক্ষের দায়িত্ব ছাড়তে অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন হাশেমী বলেন, এখানে মূল সমস্যা হাজিরা খাতা নিয়ে। আমি অবসরে গেছি, বিষয়টি তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ কামাল হোসেন বলেন, একটি পক্ষ আলাদা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানলে জটিলতা বাড়তে পারে। তাই সবাইকে একসঙ্গে আনতে চেষ্টা করছি। এদিকে, এ সমস্যার সমাধান চেয়ে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী এম এ হাসান গত ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন বলেন, “অবসরের পরও দায়িত্বে থাকা অনিয়ম। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :