কর্ণফুলীতে নিখোঁজ কিশোর উদ্ধার: অপহরণ নয়, মুক্তিপণ দাবি ছিল প্রতারক চক্রের ‘চাল’
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 26, 2026 ইং
কর্ণফুলীতে নিখোঁজ কিশোর উদ্ধার: অপহরণ নয়, মুক্তিপণ দাবি ছিল প্রতারক চক্রের ‘চাল’
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | আপডেট: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থেকে নিখোঁজ হওয়া কিশোর জিসানকে (১৫) উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের পর একটি অজ্ঞাত চক্র ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, উদ্ধারের পর জানা গেছে পুরো বিষয়টি ছিল একটি প্রতারক চক্রের কাজ। মূলত পারিবারিক অভিমানেই ঘর ছেড়েছিল ওই কিশোর। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নগরীর রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি কুলিং কর্নার থেকে কর্ণফুলী থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুনছুর আলীর ছেলে জিসান গত ১৯ এপ্রিল সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। সে নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকায় একটি গ্যারেজে কাজ করত। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকায় ২১ এপ্রিল পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পরিবারের কাছে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। ফোনদাতারা নিজেদের অপহরণকারী পরিচয় দিয়ে জিসানকে আটকে রাখার দাবি করে এবং ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, ফোনে জিসানের কণ্ঠের মতো শব্দ শুনিয়ে তাদের আতঙ্কিত করা হয়েছিল। একপর্যায়ে চক্রটি ২ হাজার ২০০ টাকা পাঠানোর প্রস্তাব দিলে পরিবারের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় জিসানের অবস্থান শনাক্ত করার পর বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা। জিসানের মামা মোজ্জামেল হোসেন জানান, পারিবারিক অভিমান থেকে জিসান স্বেচ্ছায় বাড়ি ছাড়ে। সে প্রথমে ভেড়া মার্কেট ও পরে রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিখোঁজের খবর দেখে একটি সুযোগসন্ধানী প্রতারক চক্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে কিশোরের অবস্থান নিশ্চিত করে ডিবি পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, কিশোরটিকে নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মুক্তিপণ দাবি করা প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। নিখোঁজের ৬ দিন পর জিসানকে ফিরে পাওয়ায় পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য ব্যবহার করে প্রতারক চক্রের এমন তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :