২৫০ শয্যার স্বপ্ন ভেঙে ৫০ শয্যার প্রস্তাব, হতাশ কর্ণফুলীবাসী
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 30, 2026 ইং
নতুন প্রস্তাব ৫০ শয্যার, এক দশকেও পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল থেকে বঞ্চিত কর্ণফুলীবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী উপজেলা। দ্রুত শিল্পায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উপজেলার গুরুত্ব দিন দিন বাড়লেও প্রতিষ্ঠার প্রায় এক দশক পরও এখানে গড়ে ওঠেনি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল। দীর্ঘদিনের দাবির মুখে ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পূর্বের ২৫০ শয্যার প্রকল্পের পরিবর্তে বর্তমানে ৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের নতুন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কর্ণফুলী উপজেলার ক্রসিং এলাকায় নতুন উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের পাশে প্রায় ৪ দশমিক ৭ একর জমিতে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের ১ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে জমির ল্যান্ড সার্ভে সম্পন্ন হয়। এরপর জমি হস্তান্তরসহ প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন না পাওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পনা পর্যায়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় ২৫০ শয্যার পরিবর্তে ৫০ শয্যার হাসপাতালের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। কর্ণফুলী উপজেলা দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত যোগাযোগ কেন্দ্র। শাহ আমানত সেতু হয়ে প্রতিদিন পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, কক্সবাজার ও বান্দরবানের উদ্দেশে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। প্রায়ই ঘটে সড়ক দুর্ঘটনা। কিন্তু উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল না থাকায় দুর্ঘটনায় আহত ও সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা নগরীর অন্যান্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো বিশেষায়িত চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক রোগীকে জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও এই সংকটকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজস্ব ভবন না থাকায় বড়উঠান ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে প্রায় ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে অস্থায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে বহির্বিভাগ চালু থাকলেও পূর্ণাঙ্গ জরুরি বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, অস্ত্রোপচার সুবিধা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা নেই। ফলে অধিকাংশ জটিল রোগীকেই অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বর্তমানে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, দুইজন কনসালট্যান্ট এবং ১৬ জন বিসিএস চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। তবে নার্স, টেকনোলজিস্ট ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বেশ কয়েকটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে কর্ণফুলীকে কেন্দ্র করে কোরিয়ান ইপিজেড, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিমেন্ট, ইস্পাত, ভোজ্যতেল, গার্মেন্টসসহ অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজারো শ্রমিক এবং উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য একটি আধুনিক হাসপাতালের দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কর্ণফুলীতে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মিত হলে শুধু উপজেলার মানুষ নয়, আনোয়ারা, পটিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষও উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসত। কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা বলেন, "আগের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিকল্পনার পরিবর্তে বর্তমানে ৫০ শয্যার হাসপাতালের প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রায় ১০ বছর পরও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল না থাকায় মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, "বর্তমানে ৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবনা নিয়ে কার্যক্রম চলছে। ২৫০ শয্যার প্রকল্পের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত অধিদপ্তরের। অন্যদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এখন কর্ণফুলীবাসীর প্রশ্ন, দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এই উপজেলায় বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হবে, নাকি ৫০ শয্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ। দীর্ঘদিনের এ প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের
আপনার মতামত লিখুন :