• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

একটি সেতুর দুরবস্থায় ভুগছে আটটি গ্রামের হাজারো মানুষ।


FavIcon
মোঃ রফিকুল ইসলাম
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 10, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: বাকখাইন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বাকখাইন-নিশ্চিন্তাপুর সড়কে কোনখারজোড়া খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটি শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনখারজোড়া খাল পারাপারে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ২০০৫ সালে নির্মাণ করা হয় বাকখাইন-নিশ্চিন্তাপুর সেতু।

কিন্তু গত চার বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে সেতুটি। 
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটি কোথাও পাটাতন ভেঙে গেছে, কোথাও জং ধরে ক্ষয়ে গেছে লোহার অংশ। শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানায়, কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিদিন যাতায়াতে বাকখাইন-নিশ্চিন্তাপুর সেতু ব্যবহার করে। কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে জরুরি রোগী পরিবহন-সবকিছুর জন্য ছয় ফুট প্রস্থের সেতুটিই একমাত্র ভরসা। ঝুঁকিপূর্ণ ও সরু হওয়ার কারণে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ না থাকায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল আলম বলেন, ‘প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সেতু দিয়ে চলাচল করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ সবাই। একটু অসাবধান হলেই খালে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।আর রাতে অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর হয়।’

গৃহবধূ রাশেদা বেগম বলেন, ‘গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ রোগী নিয়ে এই সেতু পার হওয়া খুব কষ্টকর। অনেক সময় মানুষকে কাঁধে করে নিতে হয়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

ব্যবসায়ী ইলিয়াছ উদ্দিন বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুর কারণে  আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মালামাল আনা-নেওয়া করতে গেলে অনেক সময় লোকসান গুণতে হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ওবায়দুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সেতুটা আমাদের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।’

শিক্ষক মো. জাকারিয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যায়। এটি শুধু একটি সেতু নয়, তাদের  নিরাপত্তারও বড় প্রশ্ন।’

প্রতিদিনের যাতায়াতকারী কাইয়ুম উদ্দিন বলেন, সেতুটি ৮টি গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। বর্তমানে এর অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কর্মজীবী মানুষসহ সাধারণ জনগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছে।সেতুটি ভেঙে গেলে ৮টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও সমাধান মেলেনি। তাছাড়া বাকখাইন-নিশ্চিন্তাপুর সড়কটি এখনও কাঁচা ও অনেক জায়গায় ভাঙাচোরা, যা পুরো এলাকার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।

পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কমল কান্তি পাল বলেন, ‘বাকখাইন-নিশ্চিন্তাপুর সড়কের সেতুটি আমাদের নজরে রয়েছে। এটি অনেক পুরনো এবং বর্তমানে ব্যবহার উপযোগিতা হারাচ্ছে। নতুন একটি প্রশস্ত সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, বাজেট অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত নতুন সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে আশা করি।’