• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

আনোয়ারায় গৃহবধূ হালিমা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 12, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: MD Saiful Islam

মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্বামী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গৃহবধূ হালিমা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার প্রধান আসামি স্বামী হাফেজ মো. মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম। আলোচিত এ ঘটনায় মামলা দায়েরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আটক করা হয়। র‌্যাব জানায়, নিহত হালিমা আক্তার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চন মুন্সিবাড়ির মোহাম্মদ ইসহাকের মেয়ে। ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর আনোয়ারার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া গ্রামের হাফেজ মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দেড় বছর বয়সী মিশকাতুল জান্নাত নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। স্বজনদের দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় হালিমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে তারা আলাদা ভাড়া বাসায় থাকলেও পরে শ্বশুরের অসুস্থতার কথা বলে হালিমাকে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। গত ১০ মে ভোরে মিজানুর রহমান ফোন করে হালিমার পরিবারকে জানান, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শয়নকক্ষের টিনের চালের বীমের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলতে দেখেন। তবে তার পা মাটির সঙ্গে স্পর্শ করা ছিল বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও দেখতে পান তারা। পরে আনোয়ারা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হালিমাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়। নিহতের বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩০৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলার নম্বর-১৩; তারিখ ১১ মে ২০২৬। র‌্যাব-৭ জানায়, মামলার পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। একপর্যায়ে তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রাম মহানগরের চকবাজার এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে ১১ মে রাত আনুমানিক ৮টা ৫৫ মিনিটে চকবাজার থানাধীন আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।