বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আনোয়ারার ১১ ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ক্যাম্প
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 18, 2026 ইং
বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আনোয়ারার ১১ ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ক্যাম্প
মোঃ সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সম্ভাব্য পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বন্যাকবলিত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্যাম্পগুলোতে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বুধবার চারটি ইউনিয়নে, বৃহস্পতিবার আরও চারটি ইউনিয়নে এবং শনিবার বাকি তিনটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এসব ক্যাম্পে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নিয়ে বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন। গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় আনোয়ারার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার পর পানি নেমে গেলেও অধিকাংশ মানুষ এখন ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত। এ সময় সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগ ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতালে রোগীর অপেক্ষা না করে স্বাস্থ্যসেবাই মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য ক্যাম্পে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী ওরস্যালাইন, জ্বর, সর্দি-কাশি ও চর্মরোগের ওষুধসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দি ছিলেন। পানি নেমে যাওয়ার পর ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ নিজ এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন এবং হাসপাতালে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। তিনি জানান, বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রোগের বিস্তার রোধে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্পের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :