বদলে যাওয়া বাংলাদেশ ও আইজিপির ভিশন: কেমন পুলিশ চাই আমরা
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 26, 2026 ইং
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, রাজনীতি বিশ্লেষক ও অপরাধবিজ্ঞানী।
একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মেরুদণ্ড হলো তার অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। আর এই বাহিনীর প্রধান যখন একজন চৌকশ, দক্ষ, মেধাবী, সাহসী এবং ভিশনারি মানুষ হন, তখন জনগণের প্রত্যাশার পারদ স্বাভাবিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী হয়। বর্তমান বাংলাদেশে ঠিক তেমনি এক ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ পুলিশের ৩২তম ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন মো. আলী হোসেন ফকির। বিগত দিনে চরম রাজনৈতিকীকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাধিকরণে পুলিশের ভাবমূর্তি যখন তলানিতে, ঠিক তখনই তিনি এই অতি গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাল ধরেছেন। দিনরাত কাজ করে চলছেন দেশবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে এবং পুলিশের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধার করতে। কিন্তু অপরাধবিজ্ঞানের ছাত্র এবং একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমি মনে করি, এই বিশাল ও জটিল কর্মযজ্ঞ কেবল একা পুলিশ প্রধান বা এককভাবে পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বদলে যাওয়া বাংলাদেশে যদি টেকসই শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হয়, তবে শুধু পুলিশ নয়—বদলে যেতে হবে আমাদের সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণকে।
আইজিপির কর্মতৎপরতা ও জিরো টলারেন্স নীতিঃ
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তাঁর প্রথম ও প্রধান যুদ্ধ শুরু হয়েছে সমাজ ও মহাসড়কের চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং মাদকের বিরুদ্ধে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধ দমনে কোনো আপস নেই। "থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে, যেন তারা হাসিমুখে ফিরতে পারেন"—আইজিপির এই নির্দেশটি মূলত পুলিশকে 'শাসক' থেকে 'সেবক' হিসেবে গড়ে তোলার একটি মানবিক প্রয়াস। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁর নিয়মিত হুঁশিয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টকশোতে বিপুল প্রশংসিত হচ্ছে। এটি তাঁর পেশাদারি সততা ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।
অপ্রতুল লজিস্টিক ও জনবলের নির্মম বাস্তবতাঃ
আমাদের মনে রাখতে হবে, চাহিদার তুলনায় বাংলাদেশ পুলিশের মানবসম্পদ এবং লজিস্টিক সাপোর্ট অত্যন্ত অপ্রতুল। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোর তুলনায় আমাদের পুলিশ-জনগণ অনুপাত চরম বৈষম্যমূলক। এই সীমিত সম্পদ, সীমিত জনবল এবং প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে চব্বিশ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করা যেকোনো বাহিনীর জন্যই এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। আইজিপি সাহেব অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবেই এই সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে সফল বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি তাঁকে সেই সহযোগিতা দিচ্ছি?
বাজেটের দিকে তাকালে দেখা যায়, বর্তমান রাষ্ট্রীয় কৃচ্ছ্রসাধন নীতির কারণে পুলিশ বাহিনীর অর্থ বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কাটছাঁট করা হয়েছে। ফলে প্রথাগত বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের জন্য খুব কম সংখ্যক পত্রিকাকেই বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। আর ঠিক এই কারণে, ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দুই-একটি দায়িত্বহীন গণমাধ্যম বিজ্ঞাপন না পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে রঙ বদলে ফেলেছে। তারা আইজিপির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মনগড়া অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। আইজিপি সাহেব মৃদু হেসে এই নোংরা সংস্কৃতি প্রসঙ্গে বলেন, পুলিশ প্রধান হিসেবে ওনাদের ভেতরের অন্ধকার অলিগলি পথ সবই তো আমাদের জানা। সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে রাতারাতি নিউজের টোন বদলে ফেলা বা টকশোতে সুবিধাবাদী ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর এই অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।
'শর্ষের ভূত' ও অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানঃ
পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা বাহিনীর ভেতরেই লুকিয়ে থাকা কিছু 'কালো ভেড়া'। একটি বাস্তব উদাহরণ দেওয়া যাক। এক নবাগত এসপি সাহেব (আইজিপি'র নিজের অভিজ্ঞতা) জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। মাঠপর্যায়ে কঠোর তৎপরতা চলল, মাদকের দাম চড়ল, কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হলো না। পরে দেখা গেল, খোদ এসপি অফিসের নাকের ডগায় বসে ডিবি (DB) পুলিশের এক ক্ষমতাধর অফিসারই ছিলেন এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল খলনায়ক! তাঁর কক্ষে অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হলেও, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের এক অদৃশ্য সুতোর টানে, তৎকালীন আইজি-কে 'ম্যানেজ' করে সেই দাগি অফিসার আবার সগৌরবে চাকরিতে পুনর্বাহাল হয়েছিলেন।
বর্তমান আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এই অভ্যন্তরীণ 'শর্ষের ভূত' তাড়াতে সম্পূর্ণ আপসহীন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাহিনীর ভেতরের অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক, তার জায়গা পুলিশে হবে না।
মাইম্যান' সংস্কৃতি: অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বনাম পেশাদারি স্বাধীনতাঃ
পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ। আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঐতিহাসিকভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের (এমপি) চাওয়াটা খুব সরল কিন্তু ভয়ানক—তাঁদের চাই 'মাইম্যান'। অর্থাৎ, ওসি কিংবা এসপি চলবেন আইনের বই দেখে নয়, বরং এমপির চোখের ইশারায়। ওসির ক্ষমতার উৎস হবে এমপির ড্রয়িংরুম, এসপির কার্যালয় নয়।
কোনো সৎ ওসি যদি এই অলিখিত দাসত্বে আপত্তি জানান, তবে মুহূর্তেই ওপর মহল থেকে বদলির হুমকি আসে। সম্প্রতি আইজিপি নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, অনেকেই তদবির নিয়ে আসেন তাদের কথামতো ওসি পদায়নের জন্য। একটি পেশাদার বাহিনীকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে তার কাছ থেকে শতভাগ সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠা আশা করা অন্যায়। যদি আইজিপির এই কর্মযজ্ঞ সফল করতে হয়, তবে জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মনমানসিকতা আমূল বদলে ফেলতে হবে। পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।
ফ্যাসিবাদ ও জুলাই-আগস্টের প্রায়শ্চিত্তঃ
পুলিশকে ব্যবহার করে অতীতে প্রতিটি সরকারই কম-বেশি রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এই পুলিশি নিপীড়নকে রূপ দিয়েছিল এক নিখুঁত অপশিল্পে। দলীয় নেতাকর্মীদের চেয়েও তৎকালীন শাসক নিজের ক্ষমতার পাহারাদার হিসেবে পুলিশ বাহিনীকে বেশি বিশ্বাস করতেন। ফলে, 'পুলিশ' এবং 'শাসকের অপকর্ম' শব্দ দুটি যেন একে অপরের সমার্থক হয়ে উঠেছিল। একটি ঐতিহ্যবাহী সুশৃঙ্খল বাহিনীর এই চরম নৈতিক অধঃপতনের চূড়ান্ত ও নির্মম খেসারত দিতে হয়েছে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে। ক্ষুব্ধ জনতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজেদের রক্ত আর জীবন দিয়ে পুলিশ বাহিনীকে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে। অথচ চরম পরিতাপের বিষয়, যে গুটিকয়েক শীর্ষ কুশীলব ও খলনায়ক এই বাহিনীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের অনেকেই আজ অবধি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।
মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও ভেতরের সংকটঃ
পুলিশের পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষটার ভেতরের খবর ক'জন রাখেন? তারা আমাদের এই ভঙ্গুর সমাজেরই অংশ। সাধারণ মানুষের মতোই তাদেরও একই অগ্নিমূল্যের বাজারে চাল-ডাল কিনতে হয়, সন্তানদের পড়াশোনা আর চিকিৎসার খরচ জোগাতে হয়। এর ওপর রয়েছে ২৪ ঘণ্টার ছুটিহীন, হাড়ভাঙা খাটুনি। বিশেষ করে কনস্টেবল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আবাসন ও জীবনযাত্রার মান এতটাই অমানবিক যে, তা অনেক সময় তাঁদের দুর্নীতির চোরাবালিতে পা দিতে প্ররোচিত করে। আর কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে দুর্নীতির এই অবাধ ও জবাবদিহিহীন সুযোগই পুলিশ বাহিনীকে গ্রাস করার প্রধান কারণ। আইজিপি এই মনস্তাত্ত্বিক সংকট দূর করে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও মানসিক সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছেন।
আইনের প্রতি অটল, আচরণে মানবিকঃ
অপরাধবিজ্ঞানের একটি মূল সূত্র হলো—পুলিশের কাজ অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া নয়, অপরাধীকে আইনের মুখোমুখি করা এবং অপরাধ প্রতিরোধ করা। বর্তমান পুলিশ প্রধানের ভিশনও তাই। তিনি চান পুলিশ আইনের প্রতি হবে অটল ও বজ্রকঠিন, কিন্তু জনগণের সাথে আচরণে হবে অত্যন্ত মানবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। পুলিশকে দেখে অপরাধী কাঁপবে, কিন্তু একজন সাধারণ বা বিপন্ন মানুষ যেন পরম ভরসা পায়। এই মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরটি কনস্টেবল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রত্যেক সদস্যের মগজে ঢুকিয়ে দিতে হবে।
জনঅংশগ্রহণমূলক পুলিশিং ও আমাদের দায়িত্বঃ
আজ সমাজের অবস্থা এমন এক পর্যায়ে ঠেকেছে যেখানে প্রবাদটি বড্ড প্রাসঙ্গিক—"সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দিবো কোথা?" শুধু পুলিশের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে এককভাবে একটি মাদকমুক্ত বা দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক বিপ্লব। আজকের বদলে যাওয়া বাংলাদেশে নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। পুলিশকে আমরা প্রতিপক্ষ না ভেবে তথ্য দিয়ে, সহযোগিতা করে অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে অংশীদার হতে পারি। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। পুলিশকে আইন ভাঙার জন্য ঘুষ বা অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে জনগণকে বেরিয়ে আসতে হবে।
একটি নতুন ভোরের প্রত্যাশাঃ
সম্প্রতি এক বিকেলে আমরা কয়েকজন যখন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছালাম, তখন অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম) মোঃ আশরাফুল আলম আমাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল ৪:৩০ মিনিটে মান্যবর আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সাথে আমাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হয়। টানা ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আইজিপি সাহেব অত্যন্ত দৃঢ়তা, সততা ও অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে তাঁর নেওয়া নানা সংস্কারমুখী পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন। একই সাথে আমাদের প্রতিটি উদ্বেগ ও পরামর্শ মন দিয়ে শুনেছেন।
আলোচনার নির্যাস হিসেবে, একটি সম্পূর্ণ ধূমপান ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একে অপরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার ব্যাপারে আমরা দৃঢ় একমত পোষণ করি। বৈঠক শেষে আইজিপি মহোদয়ের কণ্ঠে ঝরে পড়ল সেই চিরায়ত দেশপ্রেমের প্রত্যয়:
> "আমি জীবনে সবসময়ই চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে গিয়েছি, এখনও যাবো ইনশাল্লাহ। কিন্তু এই লড়াইয়ে সফল হতে হলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। যার যে কাজ, তাকে তা করতে দিতে হবে; সেখানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলবে না। অতীত গ্লানি আর অপকর্মের যে দাগ লেগেছিল, পুলিশ বাহিনী তা নিজেদের জীবন ও রক্ত দিয়ে কিছুটা হলেও ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। বাকিটা আমরা সততা, পেশাদারিত্ব ও নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে পূরণ করব। কারণ দিনশেষে আমাদের একটাই মূলমন্ত্র: **আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।"
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির যে ভিশন ও রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছেন, তা বাংলাদেশের জন্য এক নতুন আশার আলো। সংস্কারের এই যাত্রা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়—বৈঠক শেষে এই বিশ্বাসটুকুই আমাদের প্রাপ্তি। তবে এই আলোর পথ ধরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিকের এক সম্মিলিত সামাজিক চুক্তি প্রয়োজন। আইজিপির আন্তরিক প্রচেষ্টাকে সফল করতে হলে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে, পুলিশকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস দিতে হবে এবং বাহিনীর আভ্যন্তরীণ কালো ভেড়াদের বিদায় করতে হবে। তবেই আমরা একটি মানবিক, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী পাব, যা হবে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গৌরব।
মান্যবর ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, আপনার অমূল্য সময়, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, কো-অপারেশনের প্রত্যয় এবং আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা। মহান আল্লাহ আপনার সহায় হউন।
লেখক পরিচিতি:
ভাইস চ্যান্সেলর, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়;
রাজনীতি বিশ্লেষক ও অপরাধবিজ্ঞানী।
আপনার মতামত লিখুন :