• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 23, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: মোঃ সাইফুল ইসলাম

বিপিসির কার্যালয় ঢাকা স্থানান্তরের  প্রতিবাদে মানববন্ধন 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি ও বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর প্রধান কার্যালয় ঢাকা স্থানান্তরের সম্ভাব্য উদ্যোগের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বন্দরনগরী। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘সচেতন চট্টলাবাসী’ এ উদ্যোগ প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, আমদানি-রপ্তানি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই থাকা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে বিকেন্দ্রীকরণ নীতি বাধাগ্রস্ত হবে এবং চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম নগরের সার্সন রোডসংলগ্ন জয়পাহাড় এলাকায় বিপিসির নিজস্ব আধুনিক ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। কোরবানির ঈদের পর ভবনটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি চললেও একই সময়ে কার্যালয় ঢাকায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চিঠি চালাচালির অভিযোগ উঠেছে।

বিপিসির ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও উপমহাব্যবস্থাপক মো. আপেল মামুন জানান, চট্টগ্রামে নির্মিত নিজস্ব ভবনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

সূত্রমতে, ১৯৮৯ সালে সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নীতির অংশ হিসেবে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকার পেট্রোবাংলা ভবন থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ারম্যানসহ কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অধিকাংশ সময় ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, এটি ধীরে ধীরে কার্যালয় স্থানান্তরের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হতে পারে।

এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন, রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান।

নাগরিক নেতারা বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ঢাকায় সরিয়ে নেওয়া হলে আঞ্চলিক বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে।”

তারা আরও বলেন, দেশের আয়ের বড় অংশ আসে চট্টগ্রামকে ঘিরে পরিচালিত বন্দর, শিল্প ও জ্বালানি কার্যক্রম থেকে। তাই চট্টগ্রামকে কেবল ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ আখ্যায়িত না করে বাস্তবিক অর্থে তার প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর রাখার দাবি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন, যেকোনো “গোপন স্থানান্তর পরিকল্পনা” প্রতিহত করতে বৃহত্তর নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।