• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

আনোয়ারায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার ত্রাণ তৎপরতা, প্রস্তুত ৫৯ আশ্রয়কেন্দ্র


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 9, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: MD Saiful Islam

বন্যায় বিপর্যস্ত আনোয়ারা, ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতায় মাঠে প্রশাসন-মানবিক সংগঠন

মোঃ সাইফুল ইসলাম আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য বসতবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন। সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগ, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তাও অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে রায়পুর, জুইদণ্ডী, চাতরী ও তৈলারদ্বীপ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবারও উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিন উদ্দিন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা-এর তত্ত্বাবধানে উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব তহবিল এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের একাধিক টিম মাঠে থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ, দুর্গত মানুষের প্রয়োজন নিরূপণ এবং জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে প্রায় ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ এসব আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারবেন। আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগকালীন যেকোনো জরুরি তথ্য আদান-প্রদান এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রেখেছে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৭০০-৭১৬৮৩৯ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। মনোয়ারা আলম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, প্রবাসী নিউজ টিভির চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক খোরশেদুল আলম নিজ অর্থায়নে আনোয়ারার ডুমুরিয়া-রুদুরা এলাকায় ৪০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপহার বিতরণ করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে তাঁর এ উদ্যোগ দুর্গত মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরাও বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, খাদ্য বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে সরকারি সহায়তা দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়া, বৈদ্যুতিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলা, গুজবে কান না দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিত উদ্যোগ বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা নিরসন, টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।