• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

কর্ণফুলীর ঐতিহ্যবাহী সাম্পান খেলা ও সাংস্কৃতিক মেলায় কোটি টাকার প্রশ্ন


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 14, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: MD Saiful Islam

স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক, আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: (চট্টগ্রাম) 

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলা ঘিরে নতুন করে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন শেষ হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকাশ করা হয়নি আয়-ব্যয়ের হিসাব। এতে আয়োজক কমিটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।প্রতিবছরের মতো এবারও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলা। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলীসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে জমে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ না হওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্পান খেলার নাম ব্যবহার করে প্রতিবছর ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে বিপুল পরিমাণ অনুদান ও অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া মেলায় বসা শত শত দোকান থেকে ভাড়া আদায়ের মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় হয়। কিন্তু এসব অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হয়, তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব কখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবারের মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত অস্থায়ী দোকান বসানো হয়। দোকানিদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি হারে ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি কিছু দোকানির কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। যদিও আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে মাইকিং করে চাঁদা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সাম্পান খেলা চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল বছরের পর বছর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের সুযোগ নিচ্ছে। আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব না থাকায় প্রতিবছরই নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম হচ্ছে। আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম খাঁন অভিযোগ করে বলেন, কর্ণফুলীতে ২০ বছর ধরে সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশে গড়িমসি করা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এবারও এক মাস পার হলেও হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। আমি একাধিকবার হিসাব প্রকাশের জন্য তাগাদা দিয়েছি, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি আরও বলেন, কমিটির মূল দায়িত্বে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা অন্য সদস্যদের অন্ধকারে রেখে সিদ্ধান্ত নেন। এতে পুরো আয়োজন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব এস এম পেয়ার আলী বলেন, “আয়-ব্যয়ের বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। এ বিষয়ে আহ্বায়ক মির্জা ইসমাইল ভালো বলতে পারবেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মির্জা ইসমাইল বলেন, “সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলার আয়-ব্যয়ের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা আব্বাস আলীর সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই একটি বৈঠকের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হবে। এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ হিসাব প্রকাশ জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ আয়োজনের গ্রহণযোগ্যতা ও সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কর্ণফুলীর ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলাকে ব্যক্তি স্বার্থের হাত থেকে রক্ষা করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।