• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

কর্ণফুলীতে ২ হাজার টাকা নিয়ে সিএনজি ছাড়ার অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা পর ২,৫০০ টাকার মামলা


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 20, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: MD Saiful Islam

কর্ণফুলীতে টাকা নিয়ে সিএনজি ছাড়ার অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা পর মামলা

মোঃ সাইফুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে মামলার ভয় দেখিয়ে সিএনজি অটোরিকশার চালকের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়ার পর গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কয়েক ঘণ্টা পর একই গাড়ির বিরুদ্ধে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার ভেল্লাপাড়া ক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন সিএনজি চালক মোঃ হাসান।

হাসানের ভাষ্য, ২০০ টাকার একটি ভাড়া শেষে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় ভেল্লাপাড়া ক্রসিং এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ তাঁর সিএনজি থামায়। পরে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ স্টেশনে পাঠানো হয়।

চালকের অভিযোগ, স্টেশনে কনস্টেবল মোঃ রবিউল তাঁর কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে একজনের মাধ্যমে ওই টাকা দেওয়ার পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

হাসান বলেন, ‘সারাদিনে আমার আয় হয়েছিল ২০০ টাকা। পরদিন কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল। বাড়ি থেকে কিস্তির টাকা এনে ২ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে এনেছি। এখন কিস্তির টাকা কীভাবে দেব?’

অভিযোগের সময় সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে নায়েক রবিউল ইসলাম, কনস্টেবল মোঃ রেজাউল, কনস্টেবল মোঃ মফিজুল ও কনস্টেবল মোঃ রাসেল দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে কয়েকজন সংবাদকর্মী ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ স্টেশনে যান। তখন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান সেখানে ছিলেন না। রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদকর্মীদের অপেক্ষা করতে বলেন। পরে রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি স্টেশনে আসেন।

এ সময় গাড়িটি কেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, গাড়িটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

পরে মামলার কাগজ দেখতে চাইলে দেখা যায়, রাত ৯টা ১ মিনিটে ওই সিএনজির বিরুদ্ধে ২ হাজার ৫০০ টাকার মামলা করা হয়েছে। কেস স্লিপ নম্বর ৯৮১০২১৩৪৩৮।

এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গাড়িটি আটক করা হলে তখনই মামলা না করে কয়েক ঘণ্টা পর মামলা করা হলো কেন। আরও প্রশ্ন উঠেছে, গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পর রাত ৯টা ১ মিনিটে মামলাটি কীভাবে করা হলো।

এ বিষয়ে এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। পরে বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে হলে ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি তখনই জেনেছেন। তিনি কুমিল্লায় একটি সম্মেলনে রয়েছেন এবং দায়িত্ব এসআই মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে এসেছেন।

এদিকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ করার পর এক ব্যক্তি তাঁকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন চালক হাসান। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি ‘এই রোডে কীভাবে গাড়ি চালাও দেখব’ বলে হুমকি দেন। একই সঙ্গে ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকার মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চালকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টাকা নেওয়ার অভিযোগ করার পর তাঁকে বড় অঙ্কের মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।

চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘গতকাল সিএনজি অটোরিকশার চালকের সঙ্গে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা সত্যিই দুঃখজনক।’ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোঃ শাহিনুর আলম খান বলেন, ‘আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকে শুনেছি। তারপরও আমি ওই সিএনজি অটোরিকশা চালকের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’

ঘটনাটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন, চালকের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না। নেওয়া হয়ে থাকলে কার নির্দেশে এবং কার মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেটিও তদন্তের বিষয়। একই সঙ্গে গাড়ি আটকের প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর মামলা করার কারণ এবং গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পর মামলা করার আইনগত প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযোগটি যাচাই করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।