একটি সেতুর প্রতীক্ষায় ২ উপজেলা
মোঃ রফিকুল ইসলাম
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 26, 2026 ইং
একটি সেতুর অভাবে এখনও বিচ্ছিন্ন পটিয়া-আনোয়ারা সংযোগ, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নয়া রাস্তার মাথা থেকে আনোয়ারা উপজেলার হেড কোয়ার্টার পর্যন্ত সংযোগ এখনো একটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। মুরালিখালের ওপর সেতু না থাকায় বছরের পর বছর অচল পড়ে আছে সম্ভাবনাময় এই সংযোগ সড়কটি। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। বর্ষা এলেই এই দুর্ভোগ পৌঁছে যায় চরমে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি সেতু মানেই নতুন জীবন। কিন্তু সেই জীবনের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। নদী-খাল পেরিয়েই প্রতিদিন অনিশ্চিত যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর একটি শাখা শিকলবাহা খাল হয়ে মুরালিখালে এসে মিলিত হয়েছে। এই খালের ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে পটিয়া ও আনোয়ারার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। এতে সময় কমে আসবে অর্ধেকেরও বেশি, কমবে যাতায়াত ব্যয় এবং বাড়বে অর্থনৈতিক কার্যক্রম। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কাশিয়াইশ ও জিরি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বেড়ে গেলে পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় নৌকাও পাওয়া যায় না। কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল আলম বলেন, “আমাদের জীবনটাই যেন পানির সঙ্গে আটকে আছে। বর্ষা এলেই স্কুল, বাজার, হাসপাতাল—সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়।” একই ইউনিয়নের গৃহিণী রাশেদা বেগম বলেন, “রোগী নিয়ে যেতে হলে নৌকা খুঁজতে হয়। অনেক সময় নৌকা পাওয়া যায় না। কত মানুষ যে কষ্টে পড়ে, তা বলে বোঝানো যাবে না।” সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি রয়েছে ঝুঁকিও। বাধ্য হয়ে নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে কেউ কেউ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “এই রাস্তাটা চালু হলে পটিয়া থেকে আনোয়ারা যেতে ১০ মিনিট লাগত। এখন ঘুরে যেতে ২ ঘণ্টারও বেশি লাগে। এতে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাচ্ছে।” দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে কিছুটা নড়াচড়া শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। আনোয়ারা উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসাইন জানান, মুরালিখালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, মাটির পরীক্ষা ও টপোগ্রাফিক জরিপ শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কার্যক্রম চলমান। তবে এখনো প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি, তাই নির্মাণ কাজ কবে শুরু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা থাকবে। প্রায় ১৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটির প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এলজিইডির একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পটি তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং বাজেট ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবার নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচনের পর আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায় না। বাকখাইন এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু আমাদের এই কষ্টের শেষ হয় না। ভোটের সময় সবাই সেতুর কথা বলে, পরে আর কেউ খোঁজ নেয় না।
আপনার মতামত লিখুন :