• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

আনোয়ারার আলোচিত শিশু শিক্ষার্থী গণধর্ষণ মামলায় পুলিশের অগ্রগতি


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 1, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: মোঃ সাইফুল ইসলাম

রাউজান থেকে অন্যতম আসামি ফারুক গ্রেপ্তার!


তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারিতে রাউজান থেকে আটক, বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুল আলোচিত ও নৃশংস শিশু শিক্ষার্থী গণধর্ষণ মামলার তদন্তে অগ্রগতি দেখিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধান, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি মোহাম্মদ ফারুক (২৪) কে গ্রেপ্তার করেছে আনোয়ারা থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আনোয়ারা থানার মামলা নং-০৩, তারিখ ০২ মে ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ৯(৩) ধারায় দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম (ছদ্মনাম) নারগিছ আক্তার (১৪) আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের একটি আলীম মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে সে অভিযুক্তদের কবলে পড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে এক আসামি কৌশলে ভিকটিমকে একটি দোকানঘরে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি গোপন রাখার চাপ সৃষ্টি করে ভিকটিমকে অন্য আসামিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর ভিকটিমকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, আবু তাহের (৪২), রবিউল হোসেন ওরফে চুমকিয়া (২৪), মোহাম্মদ ফারুক (২৪) এবং আনোয়ার হোসাইন (২২)।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর থেকেই পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম এর সার্বিক দিকনির্দেশনায়, আনোয়ারা সার্কেলের তত্ত্বাবধানে, আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ জুনায়েত চৌধুরী এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মজনু মিয়া এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে রাউজান থানাধীন পাহাড়তলী মহামুনি এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি মোহাম্মদ ফারুককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি আলোচিত মামলায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে মামলার বাকি এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আনোয়ারাসহ পুরো এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।