সৌরবিদ্যুৎ চুরি করলে ৩ বছরের জেল, যন্ত্রাংশ নষ্ট করলে ৫ বছর
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং
নতুন অধ্যাদেশ জারি, নেট-মিটারিংয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ
প্রবাসী নিউজ ডেস্ক | ঢাকা | ২১ অক্টোবর ২০২৬, দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ কিংবা এর যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ বা অবকাঠামো ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ধ্বংস করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। এর আগে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকারি ভবন, আবাসিক ভবনের ছাদ, ভবনের প্রাঙ্গণ, সংলগ্ন অনাবাদি জমি এবং জলাশয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। এ ছাড়া সৌরচালিত সেচ পাম্প, হিমাগার, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশন, চা বাগান, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং কৃষিকাজের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তিও এর আওতায় থাকবে। তবে বৃহৎ আকারের ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো এ অধ্যাদেশের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগ নতুন অধ্যাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেট-মিটারিং সুবিধা। এ ব্যবস্থার আওতায় গ্রাহকরা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের মূল্য মাসিক বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
বিনিয়োগের জন্য দুটি পদ্ধতি
সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার দুটি মডেল নির্ধারণ করেছে। ওপেক্স (OPEX) মডেল: বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে সৌর প্যানেল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করবে। ক্যাপেক্স (CAPEX) মডেল: গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এবং স্থাপিত সরঞ্জামের মালিকানা তাদের থাকবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির বিধান রাখা হয়েছে। চুক্তিতে সরঞ্জামের মান, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ বণ্টন, বিল পরিশোধ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে।
ক্যাপেক্স মডেলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমিত দরপত্র পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
চুরি ছাড়াও যেসব অপরাধে কঠোর শাস্তি
অধ্যাদেশের ১২ থেকে ১৬ ধারায় সৌরবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।
চুরি করা সৌর প্যানেল বা অন্যান্য সরঞ্জাম কেনাবেচা কিংবা নিজের হেফাজতে রাখলেও চুরির সমপরিমাণ শাস্তি হতে পারে। অনুমোদন ছাড়া সৌরবিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ দেওয়া অথবা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন, পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে বাধা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এসব অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বিশেষ কমিটি
সৌরবিদ্যুতের প্রসার ও নীতিমালা বাস্তবায়ন সহজ করতে জাতীয় পর্যায়ে একটি নীতি পরিষদ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভা সচিব নাসিমুল গনি জানান, বৈশ্বিক সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন অধ্যাদেশের কার্যকর বাস্তবায়ন হলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: ইউএনবি / দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
প্রবাসী নিউজ টিভি | অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
ওয়েবসাইট: www.probashinews.tv
আপনার মতামত লিখুন :