• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

উশুতে স্বর্ণ জয়, কর্ণফুলীর কন্যা প্রান্তিকার সাফল্যে গর্বিত চট্টগ্রাম


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 1, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: মোঃ সাইফুল ইসলাম

জাতীয় আসরে স্বর্ণ জিতে কর্ণফুলীর মুখ উজ্জ্বল করলেন প্রান্তিকা দাশ

মোঃ সাইফুল ইসলাম কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) 
জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া আসর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উশু (Wushu) প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতে কর্ণফুলী উপজেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন কৃতি ক্রীড়াবিদ প্রান্তিকা দাশ। ৪৫ কেজি ওজন শ্রেণির ফাইনালে শক্তিশালী ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগীকে পরাজিত করে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেন। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন প্রান্তিকা। একের পর এক প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেন তিনি। চূড়ান্ত লড়াইয়ে কৌশল, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তার অনন্য সমন্বয়ে ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগীকে পরাজিত করে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন। তার এ কৃতিত্বে কর্ণফুলী উপজেলাসহ পুরো চট্টগ্রামে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা বলছেন, প্রান্তিকার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কর্ণফুলীর ক্রীড়াঙ্গনের সম্ভাবনারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে প্রান্তিকার মতো আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। স্বর্ণপদক অর্জনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রান্তিকাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কর্ণফুলীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনও তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা আশা করছেন, তার এ অর্জন নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে। কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিকা দাশের এই অসাধারণ অর্জন কর্ণফুলী উপজেলার জন্য অত্যন্ত গর্বের। জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের নয়, পুরো উপজেলার সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তার এই সাফল্য কর্ণফুলীর নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। ভবিষ্যতেও তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য আরও গৌরব বয়ে আনবেন বলে প্রত্যাশা করছি। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সাফল্য প্রমাণ করছে, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। এসব প্রতিভাকে পরিকল্পিতভাবে পরিচর্যা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে। প্রান্তিকা দাশের এই স্বর্ণজয় শুধু একটি পদক অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি কর্ণফুলীর তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক অনুশীলন ও সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা সমুন্নত রাখবেন।