• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, কর্ণফুলীতে বেকারি সিলগালা


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 3, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: মোঃ সাইফুল ইসলাম

মাছি-পচা আটা-নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, কর্ণফুলীতে বেকারি সিলগালা

মোঃ সাইফুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বিস্কুট, কেক, পাউরুটি ও বিভিন্ন নাস্তা জাতীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে একটি বেকারি সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের সময় বেকারির ভেতরে অপরিষ্কার যন্ত্রপাতি, পচা আটা, নোংরা কাঁচামাল এবং খাদ্য উৎপাদনস্থলে মাছির উপস্থিতি দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেকের উত্তর দিকে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইউনুস মার্কেট এলাকার পেছনে শাহ ছমিয়া এলাকায় ‘গ্রীন ভ্যালি ফুড প্রোডাক্টস’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার খবর পেয়ে বেকারির কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। যাওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হলেও ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রমের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কাঁচামাল রেখে যাওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেকারির ভেতরে প্রবেশ করে উৎপাদন কার্যক্রমের বিভিন্ন চিত্র দেখতে পান। সেখানে খোলা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিস্কুট, কেক, পাউরুটি এবং বিভিন্ন ধরনের নাস্তা জাতীয় খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। উৎপাদনস্থলের বিভিন্ন জায়গায় মাছির উপস্থিতি, পচা আটা ও অপরিষ্কার কাঁচামাল পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও ছিল অপরিচ্ছন্ন। অভিযানের সময় বেকারি থেকে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, কাঁচামাল ও অন্যান্য দ্রব্য জব্দ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়েও একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। বেকারিটির বিএসটিআই সনদ এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া ফ্যাক্টরি লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করা হয়েছিল। অভিযানকালে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে **‘রহমান বেকারি’, ‘ফ্রিজিয়া ফুড প্রোডাক্টস’ ও ‘গ্রিন ভ্যালি’**সহ একাধিক নামে খাদ্যপণ্য বাজারজাত করে আসছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের মোড়কে একাধিক ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়টিও কর্মকর্তাদের নজরে আসে। স্থানীয় ঠিকানা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ইউনুস মার্কেট এলাকার পেছনে শাহ ছমিয়া, চরপাথরঘাটা, কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম উল্লেখ থাকলেও কিছু পণ্যের মোড়কে চরচাকতাই, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম ঠিকানা ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। এদিকে অভিযান চলাকালে বেকারির মালিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম মুঠোফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় মালিক একজন স্টাফকে ঘটনাস্থলে পাঠানোর কথা জানালেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো স্টাফ সেখানে উপস্থিত হননি। পরে বেকারির ভেতরের পরিবেশ, খাদ্য উৎপাদনের পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ পর্যালোচনা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও খাদ্য পরিদর্শক টিটু কান্তি পাল, কর্ণফুলী থানা পুলিশের সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ জরুরি।