• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

উশুতে স্বর্ণজয়, এবার বিকেএসপিতে নতুন ঠিকানা কর্ণফুলীর প্রান্তিকাকে প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Photo

উশুতে স্বর্ণজয়, এবার বিকেএসপিতে নতুন ঠিকানা কর্ণফুলীর প্রান্তিকাকে প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি

মোঃ সাইফুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
জাতীয় পর্যায়ে উশুতে স্বর্ণপদক জয়ের পর এবার দেশের অন্যতম প্রধান ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার প্রতিভাবান খেলোয়াড় প্রান্তিকা দাশ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে বিকেএসপিতে ভর্তির অফার লেটার গ্রহণ করেছে সে। ৩০৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৪০ জনের তালিকায় স্থান করে নেওয়া প্রান্তিকার এই অর্জনে কর্ণফুলীর ক্রীড়াঙ্গনে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬-এর প্রথম আসরে জাতীয় পর্যায়ে উশু ইভেন্টের ৪৫ কেজির বেশি ওজন শ্রেণিতে স্বর্ণপদক অর্জন করে প্রান্তিকা। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বিকেএসপির ৪০ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় সে। সেখানে ৩০৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৪০ জনের একজন হিসেবে জায়গা করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ অর্জন করে প্রান্তিকা। প্রান্তিকার উশুতে পথচলা শুরু হয় আবদুল জলিল চৌধুরী স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়। কর্ণফুলীতে মার্শাল আর্টের প্রসার এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে কোচ জাবেদুল ইসলাম একটি বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করেন। সেখানেই প্রান্তিকার প্রতিভা নজরে আসে তাঁর। এরপর টানা ছয় মাসের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কঠোর অনুশীলন ও কোচের নিবিড় দিকনির্দেশনায় নিজেকে গড়ে তোলে প্রান্তিকা। বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং ব্যক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কোচ জাবেদুল ইসলাম। নিজের অধ্যবসায়, একাগ্রতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক অর্জন করে সে। প্রান্তিকার সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তার কোচ ও ডায়মন্ড মার্শাল আর্ট ট্রেনিং সেন্টারের সহকারী প্রশিক্ষক জাবেদুল ইসলাম বলেন, একজন কোচ হিসেবে প্রান্তিকার এই অর্জন আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। আমি শুধু তাকে পথ দেখিয়েছি, কিন্তু সেই পথে এগিয়ে যেতে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছে প্রান্তিকা নিজেই। তার এই অর্জন আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে। তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলী থেকে আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে—এটাই তাঁর স্বপ্ন। প্রান্তিকার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুদ্দিন সবুজ বলেন, প্রান্তিকা দাশের এই অর্জন কর্ণফুলীর ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রান্তিকা একদিন জাতীয় পর্যায়ের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করতে পারে, প্রান্তিকার অর্জন তারই প্রমাণ। কর্ণফুলীর ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে এমন প্রতিভাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিকার এই অর্জন পুরো উপজেলার জন্য গর্বের। কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তিনি প্রান্তিকার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। পাশাপাশি উপজেলার অন্য প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরাও খেলাধুলায় এগিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তরুণ প্রতিভাদের উৎসাহিত করতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি। প্রান্তিকার এই অর্জনে তার পরিবার, শিক্ষক, কোচ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বিকেএসপির উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে সে। একটি বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে শুরু হওয়া প্রান্তিকার এই সাফল্যের যাত্রা এখন বিকেএসপির নতুন অধ্যায়ে পৌঁছেছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ, সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিভারাও যে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে, প্রান্তিকার অর্জন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।