উপকূল রক্ষার নামে পারকি সৈকতে বালু উত্তোলন? অভিযানে সরঞ্জাম জব্দ, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 7, 2026 ইং
পারকি সৈকতে অবৈধ বালু উত্তোলন, প্রশাসনের অভিযানে সরঞ্জাম জব্দ
মোঃ সাইফুল ইসলাম আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতের বালুচর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাইয়ুম শাহ প্রতিষ্ঠিত লুসাই পার্কের ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি প্রকল্পের আড়ালে সৈকত থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় উপকূলীয় পরিবেশ ও পারকি সৈকতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে পারকি সমুদ্র সৈকতে স্ক্যাভেটর ও ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে সংশ্লিষ্টরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। পরে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও কর্ণফুলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করে এবং কাজ বন্ধ করে দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সময়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাইয়ুম শাহ প্রতিষ্ঠিত লুসাই পার্কের সামনের অংশে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ কাজের জন্য সৈকতের বালুচর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এ কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের অংশ এবং লুসাই পার্কের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। লুসাই পার্ক অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আলী আকবর বলেন, “এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। লুসাই পার্ক এ কাজে জড়িত নয়। আমাদের পার্কের সামনে জিও ব্যাগ স্থাপন করা হচ্ছে বলে অনেকে ভুল বুঝছেন। পারকি সৈকতের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার কারণে সৈকত এমনিতেই ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে বালুচর কেটে বালু উত্তোলন করলে সৈকতের অস্তিত্ব আরও হুমকির মুখে পড়বে। এতে পর্যটন শিল্প ও স্থানীয় ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পারকি সৈকত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, “লুসাই পার্ক একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের ভাঙন ঠেকাতে যদি সৈকতের বালু কেটে জিও ব্যাগ ভরা হয়, তাহলে পারকি সৈকতের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। ইতোমধ্যে বালুচরে ভাঙনের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। সৈকত রক্ষায় অবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহিদ বলেন, “পারকি সৈকত থেকে ঠিকাদারের লোকজন বালু উত্তোলন করছে এমন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আনোয়ারা উপকূল রক্ষায় গহিরা, বাইগ্গারঘাট ও উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকায় জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে। পারকি এলাকায় বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্তে সেখানে কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে।আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, “পারকি সৈকত থেকে বালু উত্তোলনের খবর পাওয়ার পরপরই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বালু উত্তোলনের কাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, পারকি সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। উপকূলীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং পর্যটন শিল্প রক্ষায় সৈকতের বালুচর থেকে যেকোনো ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পারকি সৈকতের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক।
আপনার মতামত লিখুন :