• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

খাস জমি বন্ধক রেখে ৭৮ লাখ টাকা ঋণ, খেলাপি হওয়ায় বিপাকে ইউসিবিএল


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 18, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: MD Saiful Islam

অধিগ্রহণের পরও বন্ধকী সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা, টাকা আদায়ে আইনি পদক্ষেপের কথা ব্যাংকের

মো. সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় খাস ও অধিগ্রহণকৃত জমি বন্ধক রেখে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) চাতরী চৌমুহনী শাখা থেকে ৭৮ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঋণটি বর্তমানে খেলাপি হওয়ায় টাকা আদায়ে জটিলতায় পড়েছে ব্যাংক। বন্ধক রাখা জমির একটি অংশ আগে থেকেই অধিগ্রহণ করা এবং অপর অংশ পরবর্তীতে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ হওয়ায় ওই সম্পত্তি নিয়ে ব্যাংকের ঋণ আদায় প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা আট শতক জমির চার শতক ১৯৬৪ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করেছিল। বাকি চার শতক ২০২১ সালে কর্ণফুলী টানেল কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণ করে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঋণ নেওয়ার সময় জমির অধিগ্রহণের বিষয়টি ব্যাংকের কাছে গোপন করা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী এলাকার মো. শওকত ওসমান ২০১৫ সালের দিকে ইউসিবিএল ব্যাংকের চাতরী চৌমুহনী শাখা থেকে ‘মেসার্স মা স্টোর’ নামের প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৭৮ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণের বিপরীতে আট শতক জমি বন্ধক রাখা হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের জন্য ওই জমির চার শতক অধিগ্রহণ করা হলে অধিগ্রহণ বাবদ প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ পাওয়ার কথা জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থ পাওয়ার পর ব্যাংকের ঋণ হিসাবে মাত্র ছয় লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ ঋণ সমন্বয়ে ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় ঋণটি খেলাপি হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা আদায়ে জটিলতার মুখে পড়েছে। বন্ধকী সম্পত্তির বর্তমান আইনগত অবস্থাও ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বন্ধকী দলিল, ব্যাংকের ঋণ নথি, অধিগ্রহণের কাগজপত্র, ক্ষতিপূরণের অর্থপ্রাপ্তির তথ্য ও ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া অর্থের রেকর্ড পর্যালোচনা প্রয়োজন। এদিকে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিয়ে তাঁকে একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউসিবিএল চাতরী চৌমুহনী শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শওকত ওসমানকে আমরা বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউসিবিএলের গুলশান প্রধান কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে। আনোয়ারা চাতরী শাখার ব্যবস্থাপককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আদায় নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন সরকারি বা অধিগ্রহণকৃত জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে। একই সঙ্গে ঋণ দেওয়ার সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জমির মালিকানা, খাজনা, দখল, পূর্ববর্তী অধিগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যথাযথভাবে যাচাই করেছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঋণ অনুমোদনের সময় জমির কাগজপত্র যাচাই, বন্ধক গ্রহণের বৈধতা এবং পরবর্তীতে অধিগ্রহণের অর্থ কোথায় গেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকের ঋণ নথি ও অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রকৃত দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাংকের পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলেও মত দিয়েছেন তাঁরা।