• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

মইজ্জ্যারটেকে রাফা হোটেল নিয়ে তোলপাড়, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ, নারী আটক


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: মোঃ সাইফুল ইসলাম Photo

দিনে আবাসিক হোটেল, রাতে কীসের আখড়া? কর্ণফুলীর রাফা হোটেল ঘিরে তোলপাড়, নারী আটক

মোঃ সাইফুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় আবাসিক হোটেল ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে রাফা আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে। রাতের বেলায় সন্দেহজনক নারী-পুরুষের আনাগোনা, স্থানীয়দের নানা অভিযোগ এবং এক নারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় হোটেলটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও সচেতন মহলে। গত ৩ নভেম্বর রাতে রাফা আবাসিক হোটেল থেকে এক নারীকে আটক করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশখালী থেকে আসা ওই নারী (ছদ্মনাম তাসলিমা) চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে এক পুরুষের সঙ্গে হোটেলটিতে ওঠেন। তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের খবর দেন। খবর পেয়ে ওই পুরুষ ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী হোটেলে গিয়ে অভ্যর্থনায় নিয়োজিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন যুবক তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেলটিতে দিনের বেলায় তেমন লোকজনের আনাগোনা দেখা না গেলেও রাতের বেলায় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়। তাঁদের আশঙ্কা, আবাসিক হোটেলের স্বাভাবিক ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে হোটেলটির উদ্বোধনী প্রচারণার ব্যানার কর্ণফুলী আব্দুল জলিল চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটকে লাগানোকে কেন্দ্র করেও আগে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন হোটেল পরিচালনা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, আবাসিক হোটেলের আড়ালে আসলে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে? কারা এর সঙ্গে জড়িত? তাঁদের দাবি, শুধু একজন নারীকে আটক করেই যেন তদন্ত শেষ না হয়; হোটেলটির সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটন করতে হবে। এলাকার কয়েকজন আলেম-ওলামা ও সচেতন ব্যক্তি বলেন, কর্ণফুলীর সামাজিক পরিবেশ ও তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো আবাসিক হোটেলের আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযোগের বিষয়ে হোটেল মালিক মোহাম্মদ আলম ও মোহাম্মদ সুমনের বক্তব্য নিতে হোটেলে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। পরে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে তদবিরের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমদ বলেন, বিষয়টি পুলিশ পর্যবেক্ষণে রেখেছে। কর্ণফুলীতে হোটেল ব্যবসার আড়ালে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপের সুযোগ দেওয়া হবে না। আটক নারীর বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, রাফা আবাসিক হোটেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে কর্ণফুলীর সামাজিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।