• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Photo

কর্ণফুলী ছাড়ছেন বিতর্কিত ইউএনও সজিব কান্তি রুদ্র বদলির খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস


FavIcon
Saiful Isalm
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 21, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: MD Saiful Islam

 ইউএনও সজিব কান্তি রুদ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বহুল আলোচিত ও সমালোচিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজিব কান্তি রুদ্রের বদলির খবরে উপজেলাজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বান্দরবান জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) পদে পদায়ন করা হয়েছে। রবিবার এ সংক্রান্ত আদেশ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয়দের একাংশ এ বদলিকে প্রশাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলেও, ইউএনওর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগকারী ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো স্বস্তি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তার দায়িত্বকালীন সময়ে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সমতা শিপিংয়ের মালিক আজিজুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ইউএনও সজিব কান্তি রুদ্র। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করার কথা জানানো হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। এদিকে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইউনুস মার্কেট এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স আর রহমান বেকারি’ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে আলোচিত হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। অন্যদিকে কলেজ বাজার এলাকার ‘সাফা মারওয়া’, ‘তাজমহল’ ও ‘হাইওয়ে’সহ কয়েকটি রেস্টুরেন্টে শিক্ষার্থীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দেয় মইজ্জারটেক সিডিএ আবাসিক এলাকার একমাত্র খেলার মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাট পরিচালনার ফলে মাঠটি পশুর বর্জ্যে দূষিত হয়ে খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে হাট পরিচালনার সুবিধার্থে মাঠে কিছু স্থায়ী অবকাঠামো রেখে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কর্ণফুলী উপজেলার একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী আবদুল জলিল চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠ পশুর হাট হিসেবে ইজারা দেওয়ার ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও সমন্বয় ছাড়াই প্রায় অর্ধকোটি টাকায় মাঠটি ইজারা দেওয়া হয়। ঈদুল আজহার পরও হাটের আয় থেকে প্রতিষ্ঠান কোনো অর্থ পায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক জানান, মাঠটি হাট হিসেবে ব্যবহারের আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শুধু একটি রিসিভ কপি দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জনগণ নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন প্রত্যাশা করে। কিন্তু দায়িত্বকালীন সময়ে একের পর এক বিতর্ক এবং অভিযোগের যথাযথ প্রতিকার না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাই তার বদলির পর অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও সজিব কান্তি রুদ্র বলেন, “ইউনুস মার্কেটের আর রহমান বেকারিতে এখনও অভিযান পরিচালনা করা হয়নি, তবে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। স্কুল-কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর বিষয়ে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল। দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মনোনয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “আজিজুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। মইজ্জারটেক মাঠে হাটের খুঁটি রয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার জানা মতে বর্তমানে সেখানে কোনো খুঁটি নেই। এ ছাড়া কলেজ বাজার এলাকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে কথিত অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দেন তিনি।